মুক্তিযুদ্ধ
পদবি ও বর্ণনা (আলাদাভাবে সংরক্ষিত)
- বৃহত্তর কুষ্টিয়ার জেলা বিএলএফ কমান্ডার
- বৃহত্তর কুষ্টিয়ার জেলা কমান্ডার
দলিলে: স্মরণ ফলক (পৃ. ১৫) লেখে ‘মুক্তিযুদ্ধ কালীন জেলা কমান্ডার ও মুজিব বাহিনী প্রধান (বিএলএফ), বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা’; ২০২২ সালের সম্মাননা স্মারক (পৃ. ১৮, ১৯) লেখে ‘মুক্তিযুদ্ধ কালীন জেলা কমান্ডার এবং বিএলএফ প্রধান, কুষ্টিয়া জেলা; বংশীতলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অধিনায়ক’; ২০০১ সালের চিঠি (পৃ. ৮) তাঁকে ‘কুষ্টিয়া জেলা বিএলএফ প্রধান’ সম্বোধন করে ডকুমেন্টে দৃশ্যমান। এগুলোকে আমরা এক করে ফেলিনি।
ওয়্যারলেস স্টেশন যুদ্ধ
প্রেক্ষাপট: কুষ্টিয়ায় প্রাথমিক সংঘর্ষে ওয়্যারলেস স্টেশন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ও পুলিশ লাইন যুক্ত ছিল।
তারিখ ও বিবরণ (অনলাইন সূত্রে): ৩০ মার্চ রাতে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়া ওয়্যারলেস স্টেশনে অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়; রাত ৩টা ১০ মিনিটে ক্যাপ্টেন আজমের একটি সংকেত গুলির মাধ্যমে আক্রমণ শুরু হয়। পাকিস্তানি পক্ষে ছিল ২৭তম বালুচ রেজিমেন্ট। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নুর আলম জিকু ও এ্যাডভোকেট আব্দুল বারী সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধের পর ১ এপ্রিল কুষ্টিয়া শত্রুমুক্ত হয় — স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলাশহরগুলোর অন্যতম।
তাঁর ভূমিকা: সামরিক প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই নির্দিষ্ট যুদ্ধে তিনি নিজে অস্ত্র হাতে লড়েননি; অধিনায়ক হিসেবে রসদ ও সরবরাহ সংগঠিত করেন এবং যোদ্ধাদের সমবেত ও সমন্বিত করেন।
স্মরণ ফলকে তাঁকে ‘কুষ্টিয়া ওয়ারলেস স্টেশন যুদ্ধ ও বংশীতলা যুদ্ধের অধিনায়ক’ বলা হয়েছে (পৃ. ১৫) ডকুমেন্টে দৃশ্যমান।
ভারতযাত্রা ও আকাশবাণী
ওই যুদ্ধের পর পাঁচ বন্ধুসহ ভারতে যান এবং আকাশবাণীতে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। ফিরে এসে পরিস্থিতির কারণে আবার ভারতে যান।
রাজু আহমেদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তোফায়েল আহমেদ সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন এবং দেরাদুনে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পরামর্শ দেন; তিনি তা করেন।
দেরাদুন প্রশিক্ষণ
প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন তাঁর জন্য নাকি ১০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। (সরকারি বা অন্য ডকুমেন্টে এই ঘোষণা এখনও দেখা যায়নি।)
বংশীতলা যুদ্ধ
তিনি বংশীতলা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন এবং প্রধান অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
তারিখ ও বিবরণ (অনলাইন সূত্রে): ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলা–দুর্বাচারা এলাকায় পাকসেনা ও রাজাকারদের ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। কুষ্টিয়া সদর ও কুমারখালীর একাধিক গ্রুপ অংশ নেয়। পাকসেনাদের প্রথম অংশ অ্যামবুশে পড়ে ধ্বংস হয়; ক্যাপ্টেন জামিলসহ আনুমানিক ১০–১৫ জন নিহত হন এবং কিছু ব্যাজ, একটি .৩৪ বোরের রিভলবার ও কয়েকটি চায়না রিভলবার উদ্ধার হয়। পাকসেনাদের কাভারিং গ্রুপ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে পাল্টা আক্রমণ চালায়। অবস্থান পরিবর্তনের সময় সদর থানার বীরপ্রতীক দিদার আলীসহ ৯ জন এবং কুমারখালীর আবদুল মান্নান (বানিয়াপাড়া) ও তাজুল ইসলাম (দুরগাপুর) শহীদ হন; মোকাদ্দেস হোসেনসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। অনেকক্ষণ যুদ্ধের পর পাকসেনারা কুষ্টিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়; যুদ্ধক্ষেত্রে পরিচালনায় ছিলেন জাহিদ হোসেন জাফর। প্রতিশোধ হিসেবে পাকবাহিনী ও রাজাকাররা শালঘর মধুয়া এলাকার অনেক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং একজন বৃদ্ধাকে হত্যা করে; পরদিন পাকিস্তানি বিমান বাহিনী বংশীতলা ও আশপাশে বিমান হামলা চালায়।
ডকুমেন্টে: ২০২২ সালের সম্মাননা স্মারকে ‘বংশীতলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অধিনায়ক’ (পৃ. ১৮, ১৯); স্মরণ ফলকে ‘বংশীতলা যুদ্ধের অধিনায়ক’ (পৃ. ১৫); তাঁর স্বাক্ষরিত দুটি সাক্ষ্যপত্রে (পৃ. ১, ২) দুজন সহযোদ্ধা বংশীতলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বলে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন ডকুমেন্টে দৃশ্যমান।
ব্যক্তিগতভাবে তাঁর লেখা বই ‘বংশীতলার যুদ্ধ: আগে ও পরে’ (১৯৯৬) এই যুদ্ধ নিয়ে; বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী যুদ্ধের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ (ইন্টারনেট আর্কাইভ রেকর্ড; পরিবার-প্রদত্ত বিবরণ)।
ওয়্যারলেস স্টেশন যুদ্ধ ও বংশীতলা যুদ্ধ আলাদা ঘটনা; দুটিতে তাঁর ভূমিকাও আলাদা ভাবে বর্ণিত।
আহত মুক্তিযোদ্ধা ও মানবিক সহায়তা
- যুদ্ধের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যান।
- ভারতে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সরবরাহ পেতে সহায়তা করেন।
- তাঁর কাছে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধারা যাতে ভুলবশত পাঞ্জাবি বা যুদ্ধে অংশ না নেওয়া সাধারণ মানুষকে আক্রমণ না করে, সেজন্য তিনি হস্তক্ষেপ করেন।
যুদ্ধ-পরবর্তী স্বীকৃতি
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকায় (পৃ. ৭, ১৪), লাল মুক্তিবার্তা (৪১১০১০২৯৬; পৃ. ১৩) ও বিসিএস গেজেট ক্রমিক ৪৯০ (৬ সেপ্টেম্বর ২০০৩; পৃ. ১০, ১১) তাঁর নাম রয়েছে ডকুমেন্টে দৃশ্যমান।